মোবাইল বা ডিজিটাল রেকর্ডারে অসংকুচিত WAV ফরম্যাটে রেকর্ড করলে আধ ঘণ্টার সাধারণ রেকর্ডিং ৩০০ মেগাবাইটের বেশি জায়গা দখল করে। ফলে এসব ফাইল মেসেঞ্জারে পাঠানো বা ক্লাউডে রাখা ভীষণ ঝামেলার হয়ে দাঁড়ায়।

মানুষের শ্রবণশক্তির সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে সাইকোঅ্যাকোস্টিক কম্প্রেশন বাড়তি তরঙ্গগুলো বাদ দেয়, যার ফলে কথার স্পষ্টতা বজায় রেখেই ফাইলের সাইজ ৮৫% পর্যন্ত কমানো যায়।

রেকর্ডিং ফাইল এত বেশি মেগাবাইটের হয় কেন

WAV অডিও কোনো কম্প্রেশন ছাড়া প্রতি সেকেন্ডের শব্দ হুবহু রেকর্ড করে। এটিকে MP3 বা AAC-তে রূপান্তর করলে সাধারণ কানে কোনো পার্থক্য না এনেই ফাইলের আকার বহুগুণ কমানো সম্ভব।

SizePress-এ অডিও ফাইল হালকা করার সহজ ৩ ধাপ

SizePress সরাসরি আপনার ডিভাইসের মেমোরিতে কাজ করে, যার ফলে বড় ফাইলও আপলোডের কোনো ঝামেলা ছাড়াই কয়েক সেকেন্ডে রেডি হয়ে যায়।

অডিও ফাইল আপলোড করুন

আপনার MP3, WAV, AAC বা FLAC ফাইলটি বক্সে যুক্ত করুন।

বিটরেট নির্ধারণ করুন

গানের জন্য ১২৮–১৯২ kbps এবং সাধারণ কথার রেকর্ডিংয়ের জন্য ৬৪–৯৬ kbps বেছে নিন।

হালকা অডিও ফাইল নামিয়ে নিন

চালিয়ে সাউন্ড চেক করুন এবং কম্প্রেস করা অডিওটি সেভ করে নিন।

শব্দের স্পষ্টতা ও সাইজের আদর্শ বিটরেট নির্দেশিকা

নিচের টেবিলে বিভিন্ন ধরনের অডিও ফাইলের জন্য উপযোগী বিটরেট উল্লেখ করা হলো।

অডিও বিটরেট এবং প্রতি মিনিটের আনুমানিক ফাইল সাইজের তুলনামূলক চার্ট।
অডিও কনটেন্টের ধরনপ্রস্তাবিত ফরম্যাটউপযুক্ত বিটরেটপ্রতি মিনিটের আনুমানিক সাইজ
ভয়েস রেকর্ডিং / সাক্ষাৎকার (Mono)MP364 kbps~০.৪৮ MB / মিনিট
পডকাস্ট ও অডিওবুকMP3 / AAC96 – 128 kbps~০.৭২ – ০.৯৬ MB / মিনিট
সাধারণ অনলাইন গানMP3 / WebM192 kbps~১.৪৪ MB / মিনিট
উচ্চমানের মিউজিক ফাইলMP3 / AAC320 kbps~২.৪০ MB / মিনিট
স্টুডিও মাস্টার মূল ফাইল (Uncompressed)WAV (16-bit / 44.1kHz)1411 kbps~১০.৫৮ MB / মিনিট

মনো (Mono) রূপান্তর: কথার রেকর্ডিং অর্ধেক সাইজ করার কৌশল

ইন্টারভিউ বা মিটিংয়ের রেকর্ডিং স্টেরিওর বদলে মনো (Mono) চ্যানেলে ৯৬ kbps-এ রাখলে ফাইলের সাইজ সরাসরি অর্ধেক হয়ে যায় এবং প্রতিটি শব্দ স্পষ্ট থাকে।

  • WAV ফাইলকে ১৯২ kbps MP3-তে রূপান্তর করলেই কোনো কোয়ালিটি লস ছাড়া ৮৫% সাইজ কমে যায়।
  • একক ব্যক্তির কথার রেকর্ডিংয়ে Mono মোড চালু করলে আরও ৫০% বাড়তি মেমোরি বাঁচে।
  • আগে থেকেই কম বিটরেটের MP3 বারবার কম্প্রেস করবেন না, এতে শব্দ বিকৃত হতে পারে।
  • স্যাম্পল রেট সবসময় ৪৪.১ kHz বা ৪৮ kHz বজায় রাখুন।
বিশেষ পরামর্শ: ক্লাসের লম্বা লেকচার বা মিটিংয়ের জন্য ৬৪ kbps Mono সবচেয়ে ভালো। ১ ঘণ্টার পুরো রেকর্ডিং ৩০ মেগাবাইটের ভেতরেই দারুণ স্পষ্ট থাকবে।

সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত: ব্রাউজারের ভেতরেই লোকাল প্রসেসিং

সবকিছু আপনার ব্রাউজারে তৈরি হওয়ার কারণে যেকোনো গোপনীয় মিটিং বা ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার ইন্টারনেটে ফাঁস হওয়ার ভয় থাকে না।